A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: fopen(/var/cpanel/php/sessions/ea-php73/ci_session9b0433e90d5defcaa8382a06d3a41a58e535fca3): failed to open stream: No space left on device

Filename: drivers/Session_files_driver.php

Line Number: 174

Backtrace:

File: /home/xpress24/public_html/index.php
Line: 316
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: session_start(): Failed to read session data: user (path: /var/cpanel/php/sessions/ea-php73)

Filename: Session/Session.php

Line Number: 143

Backtrace:

File: /home/xpress24/public_html/index.php
Line: 316
Function: require_once

কুড়িয়ে পাওয়া মানিক স্বজনের অপেক্ষায়
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১



 অনলাইন ডেস্ক

Shares: 152

আপডেট: ২০২০-১২-৩০





কুড়িয়ে পাওয়া মানিক স্বজনের অপেক্ষায়

কুড়িয়ে পাওয়া মানিক স্বজনের অপেক্ষায়

মধ্য ডিসেম্বরের শীতের রাত। ফায়ার সার্ভিস অফিসের কাছে উড়ালসেতুর থামের নিচে এক নারী। পরনে ঢলঢলে কামিজ আর পেটিকোট। না শুয়ে আরাম পাচ্ছেন, না বসে। কাছেই এক চা দোকানি অনেকক্ষণ ধরে দেখছেন তাঁকে। কিছুক্ষণ বাদে তিনিই ডেকে আনেন আঙ্গুরী নামের এক নারীকে। ফিরে এসে দুজনে দেখেন, ফুটফুটে এক নবজাতকের জন্ম হয়েছে।

অভিভাবকের অভাবে এই নবজাতকের জায়গা হয়েছে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের স্পেশাল কেয়ার বেবি ইউনিটে। ছোট্ট খাটে তার পরিচয় লেখা ‘বেবি অব আননোন’ (অপরিচিতের সন্তান)। কবজিতে লাগানো ব্যান্ডেও একই কথা লেখা। স্বজনের খোঁজে এখন দিন কাটছে তার।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে কথা হচ্ছিল আঙ্গুরী বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে চা দোকানি তাঁর বাসায় আসেন। তিনি বলেন, এক মা প্রসবযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। মাথাভর্তি জটা তাঁর। কাউকে কাছেও ঘেঁষতে দিচ্ছেন না। একজন ধাই দরকার। আঙ্গুরী ধাই নিয়ে উড়ালসেতুর কাছে গিয়ে দেখেন, একটি ছেলেশিশু জন্মেছে। তার গলায় নাড়ি পেঁচিয়ে আছে। কিন্তু মায়ের শরীরের ভেতর গর্ভফুল রয়ে গেছে। দ্রুত একটা ব্লেড এনে আগুনে পুড়িয়ে নাড়িটি কাটেন তাঁরা। ততক্ষণে নবজাতকের শরীর ময়লায় মাখামাখি। ঠান্ডায় শরীর নীল হয়ে এসেছে। প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার দায়িত্ব নেন ধাই, আর আঙ্গুরীকে বলেন নবজাতককে নিয়ে বাসায় যেতে। আঙ্গুরী নবজাতককে নিয়ে তাঁর সিদ্দিকবাজারের বাসায় আসেন।

আঙ্গুরী বেগমেরও একটা গল্প আছে। নবজাতকটি স্ক্যাবুতে পৌঁছানোর আগে তা-ই শোনা যাক। আঙ্গুরী বেগমের স্বামী ঘোড়ার গাড়ি চালান। তাঁরা থাকেন সিদ্দিকবাজারে। অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল। প্রথমে একটা মেয়ে হয়েছিল। বাঁচেনি। পরে একটি ছেলে হয় আঙ্গুরীর। আরেকটি সন্তানের শখ ছিল। ২০১৯ সালের শেষভাগে তিনি গর্ভধারণ করেন। চলতি বছরের জুলাইতে আরেকটা ছেলে হয় আঙ্গুরীর। সেও বাঁচেনি। ২৪ দিন পর কোনো এক শুক্রবার মারা যায় সে। আঙ্গুরী বলছিলেন, তাঁর স্বামী বিয়ের অনুষ্ঠান, শুটিংয়ে ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া দেন, নিজেও চালিয়ে নিয়ে যান। করোনায় কাজ ছিল না। খাবারের অভাবে ঘোড়া মরে গেছে। তিনি নিজেও একরকম অর্ধাহারে–অনাহারে ছিলেন। কম ওজনের ছেলে বাঁচেনি। পথে জন্মানো শিশুটিকে কোলে নিয়ে আঙ্গুরীর মনে হয়, এক শুক্রবার তাঁর ছোট ছেলেটি মারা গেছে, আরেক শুক্রবার সে–ই ফিরে এসেছে।

উড়ালসেতু থেকে নবজাতককে নিয়ে আঙ্গুরী ঝটপট বাসায় ফেরেন। তাঁর মায়ের পুরোনো সুতির শাড়ি ছিঁড়ে প্রথমে কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতককে পরিষ্কার করেন। তারপর মৃত ছেলের পোশাক পরিয়ে পেঁচিয়ে রাখেন তোয়ালে দিয়ে। কপালে একটা টিপ দিয়ে দুধ খাওয়ান।

এর মধ্যেই ফোন আসে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুর রহমানের। নবজাতক ছাড়া মায়ের চিকিৎসা হবে না বলে জানান ওই পুলিশ সদস্য। পুলিশের সহযোগিতায় মা ও নবজাতককে নিয়ে আঙ্গুরীরা রওনা দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে।

মো. শামছুর রহমান বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছাতে রাত দেড়টা বেজে গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা এক এক করে নবজাতকদের ভর্তি করছিলেন। কেউ কেউ বেশ অসুস্থ। কিন্তু এই নবজাতককে কোলে নিয়েই তাঁদের জানান, সে সুস্থ আছে। ওর মা নিজের নামটিও বলতে পারেননি। কোথা থেকে কবে এসেছেন, কিছুই বলতে পারেননি। তিনি কোন ফাঁকে কখন বেরিয়ে গেছেন, তাও জানেন না।আঙ্গুরী বেগমর অবশ্য আবারও গিয়েছিলেন ওই নবজাতকের মায়ের কাছে। সেতুর নিচেই শুয়েবসে থাকতে দেখেছেন। কাছে গেলে কামড়াতে আসেন। সন্তানের জন্য মনঃকষ্ট থেকে কি না বোঝেন না। কোনো কিছুই বলেন না।এদিকে স্ক্যাবুতে কর্মরত এক চিকিৎসক বলছিলেন, সমাজকল্যাণ বিভাগ শিশুটির জন্য কিছু ডায়াপার কিনে দিয়ে গেছে। এক মাস বয়সের নিচে কোনো শিশুকে তাঁরা রাখেন না। শিশুটির সামান্য জন্ডিস হয়েছিল। ভালো আছে। অভিভাবক নেই, তাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে। স্ক্যাবুতে যে মায়েদের সন্তানেরা আছে, তাঁরাই বুকের দুধ দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন ওকে।